লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
‘এবং আবৃত্তি’—একটি ছোট্ট কথা, কিন্তু এই ছোট্ট কথার মধ্যেই নিহিত আমাদের সৃষ্টিশীল অগ্রযাত্রার শক্তি, স্বপ্ন ও প্রত্যয়। আবৃত্তির সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে ‘এবং আবৃত্তি’ শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক একাডেমি ও সামাজিক সংগঠন, খুলনা ১৯৯৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে তার নিরন্তর পথচলা শুরু করে।
‘এবং আবৃত্তি—শুদ্ধ সুন্দর কথা বলি’—এই প্রত্যয়কে ধারণ করে আমাদের যাত্রার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা বিশ্বাস করি, সংস্কৃতির চর্চা মানুষের মননকে সমৃদ্ধ করে, মূল্যবোধকে দৃঢ় করে এবং একটি সুন্দর, মানবিক ও সচেতন সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস—“ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা, সব শিশুরই অন্তরে।” প্রতিটি শিশুর মধ্যেই সুপ্ত রয়েছে অসীম সম্ভাবনা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের শক্তি। প্রয়োজন শুধু সেই সম্ভাবনাকে আবিষ্কার করা এবং যথাযথ পরিচর্যা ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।
তাই লেখাপড়ার পাশাপাশি আবৃত্তি, কবিতা, সাহিত্য, সংগীত, অভিনয় ও অন্যান্য সৃজনশীল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মেধা, মনন, আত্মবিশ্বাস ও নান্দনিকবোধ বিকাশ আমাদের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
আমাদের প্রধান লক্ষ্য
শিশু-কিশোরদের শুদ্ধ, সুন্দর ও সাবলীলভাবে কথা বলার দক্ষতা গড়ে তোলা।
বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করা।
আবৃত্তির মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি ও মননশীলতা বিকশিত করা।
শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বের গুণাবলি ও ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়তা করা।
দেশীয় সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ধারণ ও লালন করা।
শিশু-কিশোরদের সুস্থ বিনোদন ও সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য একটি নিরাপদ, আনন্দময় ও সৃজনশীল পরিবেশ তৈরি করা।
সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা।
প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশ ও প্রকাশের উপযুক্ত সুযোগ সৃষ্টি করা।
পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলা।
সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিয়ে আলোকিত ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলা।
আমাদের প্রত্যয়
আমরা মনে করি, একটি শিশুর কণ্ঠে যখন কবিতা উচ্চারিত হয়, তখন শুধু শব্দের প্রকাশ ঘটে না—জেগে ওঠে অনুভূতি, চিন্তা, সৌন্দর্যবোধ ও মানবিকতা। সেই জাগরণকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়াই ‘এবং আবৃত্তি’র অঙ্গীকার।
শুদ্ধ উচ্চারণ থেকে শুদ্ধ চিন্তা,
শুদ্ধ চিন্তা থেকে সুন্দর মনন,
আর সুন্দর মনন থেকে একটি সুন্দর সমাজ—
এই ধারাবাহিক পথচলাই ‘এবং আবৃত্তি’র লক্ষ্য ও সামাজিক আন্দোলন।