প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা
একটি স্বপ্ন থেকে একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের যাত্রা
‘এবং আবৃত্তি’ প্রতিষ্ঠার মূল পরিকল্পনা ছিল শিশু-কিশোরদের জন্য এমন একটি সুশৃঙ্খল, আনন্দময় ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক পরিসর তৈরি করা, যেখানে তারা পড়াশোনার পাশাপাশি বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।
আমরা উপলব্ধি করেছিলাম—শিশুর মেধা বিকাশের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজন সাংস্কৃতিক শিক্ষা, সৃজনশীল চর্চা ও সুস্থ মানসিক বিকাশের পরিবেশ। সেই ভাবনা থেকেই আবৃত্তিকে কেন্দ্র করে একটি দীর্ঘমেয়াদি সাংস্কৃতিক উদ্যোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
আমাদের প্রতিষ্ঠার মূল পরিকল্পনাগুলো ছিল—
১. শিশু-কিশোরদের জন্য নিয়মিত সাংস্কৃতিক শিক্ষা
আবৃত্তি, কবিতা, সাহিত্য ও বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা।
২. শুদ্ধ উচ্চারণ ও সুন্দর বাচনভঙ্গি গড়ে তোলা
শিশুদের স্পষ্ট, সাবলীল ও শুদ্ধভাবে কথা বলার দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
৩. বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি
কবিতা ও সাহিত্যের আনন্দময় চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করা।
৪. আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব বিকাশ
মঞ্চ পরিবেশনা, আবৃত্তি, উপস্থাপনা ও দলগত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের আত্মবিশ্বাসী ও নেতৃত্বদানে সক্ষম করে তোলা।
৫. একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরি
শিশু-কিশোরদের জন্য এমন একটি পরিসর তৈরি করা, যেখানে তারা আনন্দের সঙ্গে শিখবে, নিজেদের প্রতিভা প্রকাশ করবে এবং ইতিবাচক সামাজিক মূল্যবোধ অর্জন করবে।
৬. সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া
শুধু প্রশিক্ষণ প্রদান নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে সম্পৃক্ত করে সংস্কৃতিচর্চাকে একটি বৃহত্তর সামাজিক উদ্যোগে পরিণত করা।
৭. প্রতিভা অন্বেষণ ও বিকাশ
প্রতিটি শিশুর মধ্যে থাকা সুপ্ত প্রতিভাকে চিহ্নিত করে তার বিকাশ ও প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরি করা।
প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়
‘এবং আবৃত্তি’র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল একটি সহজ কিন্তু গভীর বিশ্বাস—
“ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা, সব শিশুরই অন্তরে।”
এই বিশ্বাস থেকেই আমাদের প্রত্যয়—প্রতিটি শিশুর সম্ভাবনাকে সম্মান করা, তাকে সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করা এবং তার ভেতরের সৃষ্টিশীল মানুষটিকে জাগিয়ে তোলা।
১৯৯৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সেই পরিকল্পনাই বাস্তব পথচলার সূচনা করে। সময়ের সঙ্গে পরিকল্পনা বিস্তৃত হয়েছে, কার্যক্রম সমৃদ্ধ হয়েছে, কিন্তু মূল দর্শন আজও অপরিবর্তিত—শুদ্ধ সুন্দর কথা বলা থেকে শুরু করে সুন্দর চিন্তা ও মানবিক মানুষ গড়ে তোলা।
আমাদের পথচলার মূলমন্ত্র
শুদ্ধ উচ্চারণে শুরু,
সৃষ্টিশীলতায় বিকাশ,
সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধি,
মানবিকতায় পূর্ণতা।
‘এবং আবৃত্তি’—শব্দের চর্চা থেকে মানুষ গড়ার এক নিরন্তর প্রয়াস।